SVMCM (স্বামী বিবেকানন্দ) Scholarship 2026 বড় পরিবর্তন, এবার থেকে মেধার ভিত্তিতেই মিলবে বৃত্তি

 

স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপে(SVMCM Scholarship 2026) বড় পরিবর্তন, এবার থেকে মেধার ভিত্তিতেই মিলবে বৃত্তি

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষানীতি ও স্কলারশিপ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। সোমবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এবার থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে নতুন “স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ”।

সরকারের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থায় আর আলাদা আলাদা সম্প্রদায়ভিত্তিক স্কলারশিপ থাকবে না। শুধুমাত্র পড়ুয়াদের মেধা ও নম্বরের ভিত্তিতেই বৃত্তি দেওয়া হবে।



নতুন রূপে আসছে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ

দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকারি বৃত্তিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল “স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ” বা SVMCM। ২০০৬ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে এই প্রকল্প চালু হয়। পরে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই স্কলারশিপের আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ ও সুবিধা আরও বাড়ানো হয়।

এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে বিভিন্ন বৃত্তি প্রকল্প যেমন ঐক্যশ্রী, ওয়েসিস ও অন্যান্য স্কলারশিপ চালু করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার সেই পুরনো কাঠামো বদলানো হচ্ছে।

ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আর নয়

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ধর্ম, জাতি বা বিশেষ সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আলাদা স্কলারশিপ দেওয়া হবে না। সরকারের মতে, সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই এই সুবিধা পাবে।

অর্থাৎ, এবার থেকে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হবে পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে। আলাদা কোটার পরিবর্তে একক “স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ”-এর আওতায় সকল যোগ্য পড়ুয়াকে আনা হবে।

কারা পাবেন এই স্কলারশিপ?

এতদিন সাধারণভাবে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেলেই পড়ুয়ারা SVMCM স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারতেন। নতুন ঘোষণার পরেও মেধার ভিত্তিতেই স্কলারশিপ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এবার কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা সুবিধা থাকবে না। রাজ্যের যেকোনো ছাত্রছাত্রী ভালো ফল করলে সমানভাবে এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সরকারের বক্তব্য, “যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুযোগ মিলবে, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।”

শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বড় পরিকল্পনা

শুধু স্কলারশিপ নয়, এদিন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বাধীন জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়াও রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে স্কুলকে “PM SHRI” প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সরকারি স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব এবং উন্নত লাইব্রেরি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার

নতুন এই ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে স্কলারশিপ চালু হলে প্রকৃত যোগ্য পড়ুয়ারা বেশি উপকৃত হবে। আবার অনেকে মনে করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

Visit Official Website - Click Here

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.